আমাদের সম্পর্কে

আধুনিক মানব সভ্যতা পৃথিবীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ধ্বংসের মুখোমুখি। মানুষের ওপর মানুষের আধিপত্য ছাড়িয়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির ওপর প্রভুত্ব। প্রকৃতির সাথে সহাবস্থান নয়, চলছে প্রকৃতিকে শুষে-নিংড়ে নেওয়ার মহাযজ্ঞ।

জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বর্তমান পুঁজিবাদী মানব সমাজে আর সব কিছুর মতো প্রকৃতির নানা উপাদানও পরিণত হয়েছে মহা মূল্যবান ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে। আর প্রকৃতির সেসব উপাদান; তেল, গ্যাসসহ বিভিন্ন খনিজ আরহণের জন্য হত্যা-যুদ্ধ-হানাহানির অন্ত নেই বর্তমান এই ‘সভ্য’ সমাজে।

খোদ প্রকৃতির কথা চিন্তা করার কথা কারো মাথাতেই আসেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে কিছুটা হলেও ভাববার তাগিদ অনুভব করতে বাধ্য হয়েছেন বিশ্ব পরিচালনাকারী- নীতিনির্ধারকেরা। কারণ প্রকৃতি নিতে শুরু করেছে পাল্টা প্রতিশোধ। সর্বংসহা পৃথিবীকে প্রায়শই দেখা যাচ্ছে রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে।

দেশ-রাষ্ট্র-সীমানার বাহুল্য মানুষ তৈরি করেছে, যা ব্যবহার হয় কতিপয় মানুষের লোভ-লালসামূলক স্বার্থ চরিতার্থের জন্য। পরমাপ্রকৃতির কোনো কাঁটাতারের বেড়া-জ্ঞান নাই। তাই নেপালে ভূমিকম্প হলে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া টের পাওয়া যায় ভারত-বাংলাদেশেও। প্রকৃতির রোষ কত নির্মম এবং মানুষ যে তার সামনে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে তা খুব স্পষ্ট হয়ে যায় প্রতিটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়।

বর্তমান বিশ্বে প্রকৃতির এই বিরুপ ভাব ধারণের পেছনে মনুষ্য কুকীর্তির কথা এখন সর্বজনবিদিত। জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর বিলাসী জীবনযাত্রায় গা ভাসিয়ে প্রকৃতিকে ধ্বংসের দোড়গোড়ায় নিয়ে গেছে আধুনিক মানুষ। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে এখন পর্যন্ত এত বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেনের মতো গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন করা হয়েছে, যা অনেক বেশি মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। এভাবেই চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় দুর্যোগের মুখে পড়তে হবে মানব-সভ্যতাকে।

ফলে Mother Earth সাইটে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা তোলার একটা তাগিদ অনুভূত হয়েছে। এখানে শুধুই পরিবেশ বিষয়ক যাবতীয় প্রতিবেদন, লেখাপত্র, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক দলিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তা মোকাবিলার জন্য কী ধরণের তৎপরতা চালানো যেতে পারে ইত্যাদি বিষয় নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। নিজেদের লেখাপত্র-প্রতিবেদন ছাড়াও মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদনও স্থান পাবে Mother Earth সাইটে। আমরা চাই: পরিবেশ বিষয়ক ভাবনা-তৎপরতার খবরাখবরগুলো একটা জায়গায় সংরক্ষিত করতে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পৃথিবীর আবহাওয়া ও ভূ-অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অনেক ঝুঁকির মুখে থাকলেও মূলধারার গণমাধ্যমে এখনো খুব বেশি প্রাধান্য পায় না পরিবেশ সাংবাদিকতা। ফলে পরিবেশ বিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর-তথ্য আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। তেমনটা যেন না হয়, সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয়েছে এই সাইটের পথ চলা। পাঠকদের প্রতিও আহ্বান জানাই পরিবেশ বিষয়ক যে কোনো ধরণের লেখা আমাদের পাঠানোর জন্য।

যোগাযোগ: ইমেইল: standformotherearth@gmail.com