অভিবাসনের চাপ পড়বে বড় শহরগুলোয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুলাই ২০১৭, ০১:৫০

প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি হবে। ধাপে ধাপে বাংলাদেশের অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। বাংলাদেশের ভেতরে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে খুলনা শহরে। এরপরেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে চাপ বাড়বে। জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাদের বসতি ছেড়ে ওই তিন বিভাগীয় শহরে আশ্রয়ের খোঁজে আসবে।

গত শুক্রবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘স্থানীয় ঝুঁকি: এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি মূলত বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও টুভালুর ওপর গবেষণা করে তৈরি করা।

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু বিভাগীয় শহর নয়, আরও অনেক এলাকায় চাপ বাড়বে। বিশেষ করে যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি আছে সেখানে মানুষ বেশি যাবে। এটাই স্বাভাবিক। ফলে চেষ্টা করতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষ যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, সে ধরনের সুযোগ তৈরি করা ও নগরগুলোকে চাপ সামলানোর উপযোগী করে প্রস্তুত করা।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রের পানির উচ্চতা ৪০ সেন্টিমিটার বাড়বে। আর যেভাবে সবকিছু চলছে সেভাবে যদি চলে, তাহলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়বে ৮৪ সেন্টিমিটার। খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অভিবাসনের চাপ বেশি হবে বলে এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা, খরা, মাটি ও পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের মাত্রা বাড়বে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে খরাপ্রবণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে লবণাক্ততা-প্রবণ ও দক্ষিণাঞ্চলকে নদীভাঙন-প্রবণ এলাকা হিসেবে এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষেরা তাদের নিকটস্থ বিভাগীয় শহরগুলোতে আবাস গড়বে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ খুলনাকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ চট্টগ্রামকে আর মধ্যাঞ্চলের মানুষ ঢাকাকে তাদের নতুন আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেবে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমারেও কিছু অভিবাসন ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*