প্যারিস জলবায়ু চুক্তি: চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত

প্রথমবারের মতো একটি জলবায়ু চুক্তি সাক্ষরের ব্যাপারে প্রায় পুরো বিশ্বের নেতারাই একমত হয়েছিলেন গত বছরের ডিসেম্বরে। এবছরের এপ্রিলে ধরিত্রী দিবসে সেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষরও করেছেন বিশ্বনেতারা। তবে কাগুজে এই নথির বাস্তব প্রয়োগ শুরুর জন্য চাই বৈধতা। অন্তত ৫৫টি দেশের বৈধতা; যারা মোট গ্রীনহাউজ গ্যাসের অন্তত ৫৫ শতাংশ নির্গমন করে। সেই প্রক্রিয়া অনেকখানি এগিয়ে গেছে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনকারী শীর্ষ দুই দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত। চীনে চলমান জি-২০ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের হাতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্র তুলে দিয়েছেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান জি জিনপিং ও বারাক ওবামা।

obama ban ki moon

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ শুরু হওয়ার কথা ২০২০ সাল থেকে। তবে সব শর্ত পূরণ হলে এ বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরু থেকেই জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করতে চায় জাতিসংঘ। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈধতা প্রদানে সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বান কি মুন। এ বছরের শেষেই চুক্তিটি কাযকর করা যা্বে বলে আশাবাদী তিনি।

চীন ও যুক্তরষ্ট্রের আগে ফ্রান্সসহ মাত্র ২৪টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে। যার মধ্যে বেশিরভাগই ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, যারা নিজেরা চরম হুমকিতে আছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে। সব মিলিয়ে তারা নির্গমণ করে মোট গ্রীনহাউজ গ্যাসের মাত্র ১.১ শতাংশ। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই দলে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় সংখ্যাটা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯.১ শতাংশে।

US_paris aggrement

এবছরের শেষ নাগাদ জলবায়ু চুক্তিকে বৈধতা প্রদানের ব্যাপারে মৌখিক ঘোষণা দিয়েছে জি-২০ জোটভুক্ত আরও সাতটি দেশ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, জাপান ও ইন্দোনেশিয়া। চলতি মাসে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বান কি মুন। তাঁর আশা, এবছরের শেষ নাগাদ আইনি রূপ দিয়ে প্রযুক্ত করা যাবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য তাপমাত্রা দুই ডিগ্রীর অনেক নিচে ও সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে। এছাড়াও চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর জলবায়ু তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ধনী দেশগুলো।

আরও পড়ুন: প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কতটা কার্যকর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*