উষ্ণতার রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে এবছরের মার্চ

সারাবিশ্বের চলমান তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি গত মাসেও বহাল ছিলো। মার্চ মাসের হিসেবে এবছরের মার্চ ছিল উষ্ণতার রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও দেখা গেছে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা।

জানুয়ারির হিসেবে এবছরের জানুয়ারি মাসে দেখা গেছে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ তাপমাত্রা। আর ফেব্রুয়ারির হিসেবে যেটা ছিল উষ্ণতার রেকর্ডের দ্বিতীয় স্থানে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্চ মাসেও দেখা গেল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ তাপমাত্রা। তাপমাত্রার এই লাগামহীন বৃদ্ধির পেছনে বিজ্ঞানীরা দায়ী করছেন গ্রিনহাউজ গ্যাসকে, যা পৃথিবীতে উৎপন্ন তাপমাত্রা বেরোতে না দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলেই আটকে রাখছে।

নাসার রেকর্ড বলছে, এ বছরের মার্চের তাপমাত্রা ১৯৫১-১৯৮০ সালের গড়ের চাইতে ২.০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১.১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি ছিলো। এর চাইতে বেশি ছিলো ২০১৬ সালের মার্চের তাপমাত্রা, যা স্বাভাবিক গড়কে ২.২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাত্রায় ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।

বর্তমানে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাস তৈরির অন্যতম উপাদান কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। শুধু তাই নয়, এভাবে চলতে থাকলে তা বিগত ৫০ মিলিয়ন বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও সমগ্র পৃথিবীকে জ্বরে কাঁপানো এল নিনো তাপপ্রবাহ এ বছর দেখা যাবে না, তবুও মানুষের অসতর্কতার কারণেই ইতিহাসের ঊষ্ণতম বছরগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিতে চলেছে ২০১৭ও।

সভ্যতার ইতিহাসের ১৭ টি ঊষ্ণতম বছরের ১৬ টিই ছিলো ২১ শতকে, যার পাঁচটিই ছিলো ২০১০ পরবর্তি সময়ে। এর ব্যতিক্রম ছিলো শুধুমাত্র ১৯৯৮ সাল, যখন পৃথিবীতে দেখা দিয়েছিলো আরেকটি এল নিনো ওয়েভ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*