মেরুর বরফ গললে বেরোবে লক্ষ বছর লুকিয়ে থাকা জীবাণু!

বৈশ্বিক ঊষ্ণয়নের কারণে দ্রুত গলছে পৃথিবীর দুই মেরুর বরফ। এতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, হারাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। কিন্তু এ ছাড়াও এর আরেকটা বাজে প্রভাবের আশংকা করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মেরুর বরফ গলে গেলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে হাজার বছর ধরে এর ভেতরে সুপ্ত থাকা ভয়ংকর সব রোগের জীবাণুরা।

সম্প্রতি পরিচালিত একাধিক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেরু অঞ্চলে, বিশেষ করে সুমেরুতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে ঘুমিয়ে ছিলো গুটিবসন্তের মত ভয়ংকর সব রোগের জীবাণুরা। জায়গাটি ভীষণ ঠান্ডা, শুষ্ক আর অন্ধকার হওয়ায় তারা এতদিন সক্রিয় হতে পারেনি। কিন্তু সম্প্রতি মেরু’র বরফ গলতে থাকায় ধীরে ধীরে জেগে উঠছে এই অণুজীবগুলো।

মেরুর বরফ

ফরাসী অণুজীববিজ্ঞানী জিন মাইকেল ক্ল্যাভেরি বলেন, সুমেরু’র বরফের পুরু স্তরের নিচে মাটিতে লুকিয়ে থাকা জীবাণুরা বরফ গলে যাওয়ায় একে একে বেরিয়ে আসছে। খুব দ্রুতই এরা ছড়িয়ে পড়তে পারে লোকালয়ে। যে হারে খনিজ সম্পদ, বিশেষত তেলের জন্য ঐ অঞ্চলটি খোঁড়াখুড়ি করা হয় তাতে মানুষের মাঝে ছড়াতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না ৩০,০০০ বছর বয়সী এই রোগজীবাণুগুলোকে।

এর আগে ১৮৯০ এর দশকে পূর্ব সাইবেরিয়ার কোলাইমা নদীর তীরে গুটিবসন্তের প্রকোপ দেখা দিয়েছিলো। বিজ্ঞানীরা ভয় পাচ্ছেন যে ১৯৭৯ সালে বিলুপ্ত হওয়া এই রোগের প্রেতাত্মা আবার ফিরে আসতে পারে বরফচাপা প্রাচীণ জীবাশ্ম থেকে। ভূতুড়ে এই ভাইরাসটির তারা নাম দিয়েছেন মলিভাইরাস সাইবেরিকাম, যার অর্থ ‘সাইবেরিয়ার নরম জীবাণু’। যদিও আদতে খুব একটা নরম নয় বরং নরমের যম এই অণুজীবটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাইরাসটি হল একটি ‘জায়ান্ট’ বা বিশালাকায় ভাইরাস, কারণ এর আয়তন প্রায় ০.৬ মাইক্রন। সাধারণত এক মাইক্রনের (অর্থাৎ এক মিলিমিটারের এক হাজার ভাগের এক ভাগ) বেশি বড় হলেই ভাইরাসকে জায়ান্ট ভাইরাস বলা হয়। সেই তুলনায় এই জীবাণুটি প্রায় দৈত্যকায়।

বিশাল এই জীবাণুটি ২০১৪ সালে পূর্ব সাইবেরিয়া উপকূলের চুকোটকা তুন্দ্রা অঞ্চলের মাটিতে পাওয়া গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*