শ্বাস নেয়ার অযোগ্য হচ্ছে ঢাকা

বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, যানজট, আরও নানাবিধ কারণে দিনকে দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। দেশটির জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নগরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। পত্রিকাটি বলছে, বিগত তিন বছরে ঢাকার বায়ুদূষণ ১৭২ একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) থেকে বেড়ে ৩৬১ একিউআই-এ পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশের হিসেবে অতিরিক্ত বেশি।

dhakair

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার বাতাস বিষিয়ে তোলা ধোঁয়া এবং ধুলোর ৫৮% আসে নগরীটির চারপাশে এবং ভেতরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ইটভাটা থেকে, ১৮% পথের ধুলো থেকে, ১০% যানবাহন থেকে৮% বিভিন্ন কারখানার জ্বালানী থেকে, এবং ৬% অন্যান্য উৎস থেকে। 

ঢাকার বাতাসে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসীয় পদার্থ যেমন কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, মিথেন, ইত্যাদির পরিমাণ আশংকাজনকভাবে বাড়ছে। তবে আরও ভয়ের বিষয় হল, শুধু গ্যাসীয় পদার্থই নয়, বিভিন্ন ক্ষতিকারক খনিজ পদার্থ যেমন সালফেট, নাইট্রেট, এ্যামোনিয়া, লবণ, কালো কার্বন, ইত্যাদি ধুলো হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে ঢাকার আকাশে বাতাসে, শ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকে অসুস্থ করে তুলছে শহরটির অধিবাসীদের, বাড়াচ্ছে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগব্যাধী।

চীন এবং ভারতের বাতাসকে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশও সেই দিকে এগোচ্ছে কি না জিজ্ঞেস করলে আবহাওয়াবিদরা বলেন, আমাদের এখনো আশা আছে। কারণ ২০০৩ সালে সরকার ঢাকায় দুই স্ট্রোকের ইঞ্জিন নিষিদ্ধ করার পর ঢাকার বায়ুদূষণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছিল। সরকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
২০১৩ সালে সরকার ইটভাটা থেকে উৎসারিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি আইন পাশ করে, যেখানে সকল সেকেলে ইটভাটাগুলোকে তাদের প্রাচী অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব পন্থায় ইট উৎপাদন করার নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদপ্তর দ্বারা ঘোষিত ক্ষতিগ্রস্থ ৪ টি নদীর (তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা) তীরে কোন ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু কোথায় কোথায় ইটভাটা রাখা যাবে, এ বিষয়ক কোন নির্দেশনা না থাকায় জায়গার অভাবে এসব ইটভাটার মালিকরা তাদের পূর্বের স্থানেই, অর্থাৎ ঢাকার উত্তরাংশে টঙ্গী, গাজীপুর, ও আশুলিয়াতেই এখনো তাদের ইটভাটাগুলো রেখেছেন।

অপরদিকে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও কুখ্যাতি কুড়িয়েছে ঢাকা।  পর্যটন বিষয়ক ওয়েবসাইট ডেস্টিনেশন টিপস্‘- এর ফর্দে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক আর কিম জং উনের হীরক রাজ্য  দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি নাম লিখিয়েছে ঢাকা। ওয়েবসাইটটির মতে, বিশ্বের দশটি নিকৃষ্টতম পর্যটন শহরের তালিকায় আট নম্বরে রয়েছে ঢাকা। তালিকায় আরও আছে ইউক্রেইনের কিয়েভ, হাইতির পোর্ট অফ প্রিন্স, সোমালিয়ার মোগাদিশু, মেক্সিকোর সিউডাড জুয়ারেজ, কলম্বিয়ার বোগোটা, লিংকনশায়ারের স্কেনেস, এবং পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি শহরের নাম।

এদিকে বায়ুদূষণে দেশের ভেতরেও ঢাকা একা নয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং বরিশালও আছে বায়ুদূষণে এগিয়ে। কম যায় না রাজশাহী এবং সিলেটের মত বিভাগীয় শহরগুলোও, যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে তাদের দূষণের তীব্রতা ঢাকার চাইতে অপেক্ষাকৃত কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*