২০১৬ সালে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড: জাতিসংঘ

অর্থায়নে ২৩% ঘাটতি থাকাসত্তেও বাড়তি ১৩৮.৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত হয়েছে ২০১৬ সালে, বলছে জাতিসংঘের হিসাব। একই বছর জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ তার প্রায় অর্ধেক ছিলো

বাড়তি উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব এই বিদ্যুতের উৎস মূলত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প থেকে আসা বায়ু এবং সৌরশক্তি। বড় বড় জল বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ছাড়াই এই ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলো থেকেই বাৎসরিক গড় উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ২০১৬ তে তার আগের বছরের চাইতে ৮% বেশি ছিলো। উল্লেখ্য, ২০১৬ তে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ছিলো ২৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২২৭ বিলিয়ন ইউরো)।

নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের এই প্রকল্পগুলো পাল্লা দিচ্ছে বিশ্বের বড় বড় ১৬ টি সাধারণ বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে। যদিও পোল্যান্ড আর গ্রীস বাদে ইউরোপের বাকি দেশগুলো প্রতিজ্ঞা করেছে ২০২০ সালের পর আর কোন নতুন তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র তারা বানাবে না। ইতমধ্যে ৩,৫০০ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নে একমত হয়েছে। ২০১৫ তে ফ্রান্সের প্যারিসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বছরে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেঁধে ফেলার প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয় বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তি সহ ১৯৫ টি রাষ্ট্র।

হঠাৎ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের এই উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে এর আর্থিক সাশ্রয়িতাকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও চীন, জাপানের মত কিছু দেশ হঠাৎ তাদের প্রায় সকল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ায় বিদ্যুতের বিকল্প উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*