গাছবিহীন গ্রেটার রোড: রুদ্ধশ্বাসে রাজশাহী

মাঈশা মারিয়ম সৈয়দ

কিছুদিন আগেও গ্রেটার রোড ধরে চলতে গেলে রাস্তার দু’পাশের সবুজে চোখ জুড়িয়ে যেত। নবাবগঞ্জ রোড থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাটার দু’পাশে যেখানেই কোন ভবন বা দোকানপাট নেই, সেখানেই ছিল গাছ। আটানব্বইয়ের বন্যা, ঘূর্ণিঝড় সিডর, বা তীব্র গরম থেকে রাজশাহীর একটা বড় অংশকে আগলে রেখেছে এই গাছগুলো। ঠিক কবে থেকে এই গাছগুলো ছায়া দিচ্ছে কেউ সঠিক বলতে না পারলেও, এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাস্তার দু’ধার ঘেঁষা এই কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কড়ই গাছগুলো। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে গাছগুলোর গায়ে নির্দয়ভাবে কুড়াল বসাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। যদিও বলা হচ্ছে রাস্তা দিয়ে বড় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার কারণেই কেটে ফেলা হচ্ছে গাছগুলোর ডালপালা, কিন্তু আদতে কাটা পড়ছে আস্ত গাছই।

আমি নিজে ঐ এলাকায় প্রায় ১৫ বছর থেকেছি। আমাদের বাড়ির ঠিক সামনেই ছাতার মত ডালপালা ছড়িয়ে ছিল মস্ত এক কড়ই গাছ। অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ থেকে গাছগুলো বহুবার বাঁচিয়েছে আমাদের।
বিভিন্ন সরকারের আমলে উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট মেরামত ও রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০০০ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের বাড়ির কিছুটা অংশ রাস্তা দখল করে ছিল বলে কর্পোরেশনের লোক এসে বারান্দার গ্রিলের সাথে শিকল বেঁধে ট্রাক দিয়ে টেনে নিয়ে ভেঙে ফেলে বাড়িটার সামনের অনেকখানি অংশ, আমার চোখের সামনেই। তবুও গাছগুলোতে কখনো হাত দেয়নি কেউ। অথচ হঠাৎ একদিন এসে সব গাছ কেটে ফেলা হল কোন পূর্বাভাস বা জনমত ছাড়াই।

যদিও আশ্বাস দেয়া হচ্ছে ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে আবার নতুন গাছ লাগানো হবে, কিন্তু সেই গাছ আবার এগুলোর সমান বড় হতে অন্তত বছর বিশেক লেগে যাবে। অর্থাৎ বিশ বছর পর্যাপ্ত অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হবে এলাকার মানুষ।

গ্রেটার রোড দিয়ে যাওয়ার সময় এখন হাহাকার লাগে। দেখি সর্বহারার মত শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার শৈশব-কৈশোরের ঠিকানাটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*