ভৈরবের তীরে অবৈধ সিসা কারখানাটি চলছেই

যশোর প্রতিনিধি

১৬ আগস্ট ২০১৭, ০০:৪৭

প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামে ভৈরব নদের তীরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সিসা কারখানাটি বন্ধ করা হয়নি। অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সিসা কারখানাটি উচ্ছেদের ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারখানাটির ধোঁয়া ও বর্জ্যে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।


অভয়নগর উপজেলার শেষ প্রান্তে সিদ্দিপাশা গ্রাম। গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। এ নদ থেকে বেরিয়ে গেছে মুজুতখালী খাল। খালটির উৎপত্তিস্থলের পাশে নদের পাড়ে সিসা কারখানার অবস্থান। ওই গ্রামের দুই ভাই জিয়াউর রহমান মোল্যা ও রফিকুল ইসলাম মোল্যা দুই বছর আগে কারখানাটি গড়ে তোলেন।
গত ১৮ মে প্রথম আলোতে ‘ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী/যশোরে ভৈরবের তীরে অবৈধ সিসা কারখানা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার তিন পাশে বাঁশবাগান। এক পাশে ভৈরব নদ। আগের রাতের সিসা তৈরির ছাপ রয়েছে কারখানায়। সিসা কারখানার কিছুটা দূরে সিদ্দিপাশা গ্রামের সোনাতলা ভদ্রপাড়া ও গাজিপাড়া। ওই দুই পাড়ায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গ্রামের কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁরা বলেন, কারখানাটি আগের মতোই চলছে। রাতে কারখানায় ইজিবাইকের পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করা হয়। রাতে যখন ব্যাটারি পোড়ানো হয়, তখন গোটা এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। সকালে বিভিন্ন স্থানে সাদা সাদা বর্জ্য পড়ে থাকে। তাঁরা বলেন, দুই ভাই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। এ জন্য তাঁরা (গ্রামবাসী) ভয়ে কিছু বলতে পারেন না।
সোনাতলা ভদ্রপাড়ার একজন গৃহবধূ বলেন, ‘রাতে যখন কারখানাটিতে সিসা তৈরি করা হয়, তখন চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়। ওঁদের ভয়ে কিছুই বলতে পারি না।’
গাজিপাড়ার একজন কৃষক বলেন, ‘সিসা কারখানাটি এলাকার খুব ক্ষতি করছে। কারখানার ধোঁয়া, উৎকট গন্ধ ও সাদা বর্জ্যের কারণে এলাকার অনেকেই হাঁপানি, কাশি, মাথাব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছে। প্রায়ই শুনি প্রশাসন কারখানাটি ভেঙে দেবে। কিন্তু কই? কিছুই তো দেখি না। কারখানা আগে যেমন চলছিল, এখনো তেমন চলছে।’
সিসা কারখানাটির অন্যতম মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভৈরব নদের তীরে জায়গা কিনে আমি ও আমার ভাই কারখানাটি তৈরি করেছি। কারখানার আশপাশে কোনো ঘরবাড়ি নেই। এতে এলাকার লোকজনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের সিসা কারখানা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিসা কারখানার বর্জ্য ও ধোঁয়া থেকে নানা দুরারোগ্য ব্যাধি, এমনকি ক্যানসারও হতে পারে। আমরা কারখানাটি ভেঙে দেব। পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। এই কারণে আমরা কারখানাটি উচ্ছেদ করতে পারছি না। নতুন ম্যাজিস্ট্রেট যোগদান করার সাথে সাথে কারখানাটি উচ্ছেদ করা হবে।’
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘সিসা কারখানাটি এলাকাবসীর অনেক ক্ষতি করছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুব শিগগির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*