রংপুরে সোয়া দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

১৬ আগস্ট ২০১৭, ০০:৪২

প্রিন্ট সংস্করণ

উজান থেকে ধেয়ে আসা পানি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রংপুরের ৮ উপজেলার ৪২টি ইউনিয়নের সোয়া দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ৩৬ হাজার ২০০ হেক্টর রোপা আমনখেত ও ১ হাজার ১১৫ হেক্টর সবজিখেত।
গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গত মানুষ।


এদিকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ হাজার ৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭০০ চিকিৎসক দল বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহবুব এলাহী।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, জেলার ৮ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪৪ হাজার ৫০৫টি।
এসব পরিবারেরর মোট সদস্য প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫২৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে জেলা প্রশসানের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৬০ টন চাল দেওয়া হয়েছে।
১০০ টন চাল ও ৩ লাখ টাকা আজ বুধবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ৫০০ টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা চেয়ে ঢাকায় জরুরি চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো তা মেলেনি।
এসব চালের মধ্যে গঙ্গাচড়ায় ৮০ ও কাউনিয়ায় ৩০ মেট্রিক টন এবং পীরগাছায় ৩০, বদরগঞ্জে ১০ ও তারাগঞ্জে ১০ টন চাল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচারক স ম আশরাফ আলী বলেন, ৩৬ হাজার ২০০ হেক্টর রোপা আমনখেত ও ১ হাজার ১১৫ হেক্টর সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
তবে টাকার অর্থে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ত্রাণ কর্মকর্তা ফরিদুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*