প্যারিস সম্মেলন: জাপানের অবস্থান

প্রকৃতির রুদ্র রোষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরিবেশ বিষয়ক একটা বৈশ্বিক চুক্তি বা সমঝোতার তাগিদ বোধ করতে বাধ্য হয়েছেন বিশ্বনেতা-নীতিনির্ধারকরা। সেই লক্ষ্যেই আগামী নভেম্বরে প্যারিসে আসবেন ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধি। জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে। ২০১৫ সালের এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের ভাগ্য। যারা আছেন প্রাণ হারাবার বা জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে। খুব দ্রুত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানোর ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় থাকবে না। নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্যারিস সম্মেলনের মাস দুয়েক আগে থেকেই প্রতিটা দেশ জাতিসংঘে জমা দিতে শুরু করেছে পরিবেশ বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা, কর্মপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা।

Climate pledge Japan Position

জাপান বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। এবারের পর্বে থাকছে জাপানেরপরিকল্পনা:

২০১৩ সালের সাপেক্ষে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন ২৬ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে ২০৩০ সাল নাগাদ। এটা করতে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০-২২ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে হবে নিউক্লিয়ার উৎস থেকে।

২০৩০ সাল নাগাদ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা হবে ২২-২৪ শতাংশ। এই খাত থেকে বর্তমানে আসে ১১ শতাংশ।

জাপান এটাকেই বলছে ‘একটা নায্য ও বাস্তবমুখী কর্মকাঠামো’। তবে পরিবেশবাদীরা করছেন তীব্র সমালোচনা। গ্রীনপিস, জাপানের অবস্থানকে বিবেচনা করছে ‘শিল্পোন্নত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম দুর্বল লক্ষ্য’  হিসেবে। গ্রীনপিস বলেছে, জাপান যদি ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো ১৯৯০ সালের সাপেক্ষে হিসেব করত তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ তারা কমাবে মাত্র ১৮ শতাংশ গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন। যেখানে ইইউ কমাতে চেয়েছে ৪০ শতাংশ। ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার জাপানের এই ২৬ শতাংশের লক্ষ্যকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে রায় দিয়েছে। তারা বলেছে, জাপান প্রায় কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই এই লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।

জাপানের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর নেটওয়ার্ক একসময় পুরো দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক চতুর্থাংশ পূরণ করত। কিন্তু ২০১১ সালে ফুকুশিমায় নিউক্লিয়ার বিপর্যয়ের পর রিঅ্যাকটরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাপান ব্যাপক হারে ঝুঁকে পড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে। যেগুলো নির্গমন করে প্রচুর পরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস।

জাপানের তথ্যমতেই, ২০১৩ সালে তাদের গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ ছিল ১.৪ বিলিয়ন টন। বর্তমানে পুরো বিশ্বজুড়ে নির্গমন করা হয় প্রায় ৫০ বিলিয়ন টন। এর মধ্যে অর্ধেকের জন্য দায়ী চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।